।।অর্ঘ্য প্রতীম ঘোষ।।
একটা সাবমেরিন হারিয়ে গেছে। একটা বেসামরিক সাবমেরিন। পাঁচজন যাত্রী নিয়ে কোন এক জুন মাসের বিকেলে সাবমেরিন টি ডুব দিয়েছিল আটলান্টিক এর অতলে।
ফ্রান্সে প্রকাশিত বাংলা ওয়েবজিন। প্রকাশক : প্যাট্রিসিয়া গিদাস, ভ্যান, ৫৬০০০, ব্রিটানি, ফ্রান্স। সম্পাদক : নাসরিন-জয়া হক, চয়ন খায়রুল হাবিব। Contact : choygypsy@yahoo.com
।।রাদ আহমদ।। গোলাপকে যে নামেই ডাকো, সে গোলাপই। প্রাককথন : ১৯৯৭-২০০২ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় ঘটনাক্রমে একজন সিনিয়ার ভাইয়ের মারফতে র...
।।অর্ঘ্য প্রতীম ঘোষ।।
ভাদ্র মাসের মধ্য দুপুর। তালপাকা গরমের হলকা বইছে সুপুরি ও নারকোল গাছের পত্রে পত্রে। মাটির উপর পা রাখা বুঝি দায়! নরম স্পঞ্জের পুরু স্তর ভেদ করে আগুনের তাতানো আঁচ দিব্যি টের পাওয়া যায় প্রতিটি পদক্ষেপে। মাথায় উপর বেতের বানানো লাইয়ের ( এক ধরনের ঝুড়ি) বোঝা যতো না ভারী লাগছে মিলিটারি আর তাদের দোসর দালালদের ভয়ে গ্রামের জনহীন মাঠ ঘাট তিতা মিয়ার মনের ভেতর ভয়ের দলা পাকিয়ে গলা অব্দি উঠে আসছে। কিন্তু উপায় নেই! সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। এই খাবারের বোঝাটা তাকে বাগের ঝিলপাড় অব্দি পৌঁছে দিতে হবে।
এবং বাঙালি লেখক, লেখিকার কলমে!
।।কনক রহমান।।
'ঘরে নাই ধান-চাল, চালে নাই ছানি।আকর ভেদিয়া পড়ে উচ্ছিলার পানি।।ভাসান গাইয়া পিতা বেড়ান নগরে।চাল-কড়ি যাহা পান আনি দেন ঘরে।'
।।চয়ন খায়রুল হাবিব।।নাসরিন-জয়া হক।।তৃণা রাব্বানি।।কনক রহমান।।
'শে' উপন্যাসের টোল এবং দিঘলী গ্রামের উপকথা
।।অমিতাভ পাল।।

লোকটাকে খুব ভয় পাচ্ছে মেয়েটা। যেরকম দশাসই চেহারা, সারা শরীরে কিলবিল করছে পেশী- দেখলেই মনে হয় টিপে মেরে ফেলতে পারবে যেকোন মানুষকে। আর চোখগুলিও- তীক্ষ্ণ, কৌতুহলী, বাইরের কাউকে পোশাকের মতো খুলে ফেলে ভিতরের আমিটাকে নগ্ন করে ফেলা যেন কিছুই না তাদের জন্য।
।।কাকলী সরকার।।
।।মাহবুব শাহরিয়ার।।

।।কাননবালার দেহাবশেষ।।
।।তৃণা রাব্বানি।।
পুলিশ ইন্সপেক্টর : ভদ্রমহিলার গলার লকেটে এই ছবিটা পাওয়া গেলো।'ছবির পেছনে লেখা, 'আমার অশোক'
পুলিশ সুপার : হুইল চেয়ারের লোকটা তাহলে অশোক মৈত্র, আর মহিলা তাহলে কানন বালা।কিন্তু কানন বালার তো মাথার চুল কালো ছিল।এই মহিলার মাথার চুল সোনালি, বব কাট।চোখের মনিও নীল।দেখতে মেরিল স্ট্রিপের মতো।
।।অমিতাভ পাল।।
কবর ।।তৃণা রাব্বানি।।
পত্নী বিয়োগের পরক্ষণে তুমি ভাষার গোলমালে পড়লে, গোলমাল তোমার বহুপত্নীক ভাষা হয়ে গেলো।খুন করে পুলিশের কাছে গেলে।তোমার চেয়ে বড় একটা গোলাপি বড়ি তোমাকে বল্লো, ডাক্তার শাহীন, নার্স জাকির, রোগী আনিসুল, স্বাস্থ্যকর্মী কাজলকে এক ঢোকে গিলে হেগে বের করে দাও।তুমি আমাকে বললে, 'আমার যে অংশে পক্ষাঘাত সেখান দিয়ে শুরু করো।'
।।বাবলী হক।।
লক্ষ্মীবালা সারারাত ঘুমাতে পারল না। প্রায় একমাস লাগাতার রাতে সে ঘুমায় না। যেদিন ঘর থেকে সেনাবাহিনী সুপ্রাণুকে ধরে নিয়ে গেল, সেদিন থেকেই লক্ষ্মীবালার রাতের ঘুম গায়েব। গুনে গুনে দেখেছে তেত্রিশ রাত তার চোখে ঘুম নাই।
।।অমিতাভ পাল।।
![]() |
।।নাসরিন-জয়া হক।।
জ্যানেট উইন্টারসনের, 'মেসেজ ইন আ বটলের' অনুবাদ।
*'সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো।ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে
যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে......'
প্রতিটা শক্ত জিনিস তার জলতরলতা ফিরে পেয়েছিল!
বৃষ্টি লম্বা, সোজা ভাবে পড়ছিল, প্রতিটা ফোঁটা দীর্ঘ লাইনে শেষ ফোটাটার সাথে জড়িত, লোহা-ধূসর আকাশ থেকে নেমে সুরক্ষা-শাটারের মতো শহরের পর শহর রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল।
।।অমিতাভ পাল।।
ছুটি কাটিয়ে বাসায় ঢুকবার মুখেই হোঁচট খেলো লোকটা। এটা কোন বেতরিপদ ইটের সাথে পায়ের ধাক্কা লেগে হোঁচট খাওয়া না, বরং কোলাপসিবল গেইটের তালা খুলতে গিয়ে খুলতে না পারার বিড়ম্বনা। তালাটা অবশ্য মাঝেমাঝে খুলতে চায় না, বেগড়বাই করে, কিন্তু একটু কায়দা করে চাবির কানে মোচড় দিলে খুলে ফেলে নিজেকে। আজও সেরকমই কিছু হয়েছে ভেবে লোকটা সেই চেষ্টায় মন দিল, চাবিটাকে বিভিন্নভাবে তালার ফোঁকড়ে ঢুকিয়ে যৌনতার নতুন নতুন কায়দার মতো তালার অর্গাজম ঘটাতে চাইলো। কিন্তু কোন চেষ্টাই কোন কাজে এলো না। তালাটা ঠোঁট টিপে অনড় হয়ে লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে আসা লোকটার ক্লান্ত শরীরটাকে বিদ্রুপ করতে থাকলো সমানে।
।।আতিয়ান নাহার।।